06-04-2019 সাইফ ডেস্ক.
ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্প ও গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত, বছরব্যাপী পাবলিক লাইব্রেরি ক্যাম্পেইন “চলো গ্রন্থাগারে চলো দেখি সম্ভাবনার আলো” - এর অংশ হিসেবে ৬ এপ্রিল, শনিবার বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার রংপুরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হলো দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মীসহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল¬াহ সাজ্জাদ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক), রংপুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ জে এম আব্দুল্যাহেল বাকী, পরিচালক, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও যুগ্মসচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অধ্যাপক ড. আবু কালাম মোঃ ফরিদ-উল ইসলাম, প্রক্টর, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্পের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর কার্স্টি ক্রফোর্ড। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ আলীম উদ্দীন, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, বাংলা বিভাগ, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার রংপুরের লাইব্রেরিয়ান (সহকারী পরিচালক) আবেদ হোসেন এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের কর্মকর্তাবৃন্দ। ক্যাম্পেইনের প্রথমদিনের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, টয়ব্রিকস সেশন, কম্পিউটার কোডিং সেশন, নারীবান্ধব গ্রন্থাগার গঠন বিষয়ক মতবিনিময় সভা এবং সরকারি গণগ্রন্থাগার খাতের উন্নয়নে ব্যক্তিখাতের অংশগ্রহণ বিষয়ক আলোচনা সভা। উলে¬খ্যে যে, গত ১৯ মার্চ ২০১৯ রাজধানীর সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের কনফারেন্স কÿে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় এই এক বছরব্যাপী পাবলিক লাইব্রেরি ক্যাম্পেইনের। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক), রংপুর জনাব আব্দুল¬াহ সাজ্জাদ বলেন, গতানুগতিক লাইব্রেরির ধারণাকে বদলে দিয়ে আধুনিক লাইব্রেরির যে কার্যক্রম রংপুর থেকে যাত্রা শুরু করলো তা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে আমি বিশ্বাস করি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবু কালাম মোঃ ফরিদ-উল ইসলাম বলেন, বছরব্যাপী পাবলিক লাইব্রেরি ক্যাম্পেইন “চলো গ্রন্থাগারে চলো দেখি সম্ভাবনার আলো”- এই ক্যাম্পোইনের মধ্যে জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে এবং তিনি জ্ঞান অর্জনে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যাবহারের উপর জোর দেন। শুভেচ্ছা বক্তব্যে জনাব আবেদ হোসেন সবাইকে আরও বেশি মাত্রায় সরকারি গ্রণগ্রন্থাগার ব্যবহারের জন্য আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, “আমরা ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্পের সহযোগিতায় যুক্ত করতে যাচ্ছি নতুন নতুন সেবা যেমন, গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য বিনামূল্যে ওয়াইফাই ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার, শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার কোডিং এবং প্রোগ্রামিং শেখার ব্যবস্থা এবং শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য টয়ব্রিক সামগ্রী।” সরকারি গণগ্রন্থাগারের এই নতুন সেবাগুলোর মাধ্যমে পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সদস্যপদকে গণগ্রন্থাগারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা হিসেবে উলে¬খ করে তিনি সবাইকে সদস্যপদ গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক জনাব এ জে এম আব্দুল্যাহেল বাকী বলেন, আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কাজ করছি। এ লক্ষ্য অর্জনে গণগ্রন্থাগার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে পারে। তবে তার জন্য সরকারি গণগ্রন্থাগারগুলোকেও সম্ভাব্য চাহিদার আলোকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো দরকার। এ লক্ষ্যে ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্পের সহযোগিতায় রংপুর বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারে শিশুদের জন্য যুক্ত হলো- ট্রয়ব্রিকভিত্তিক- খেলি-গড়ি-শিখি কার্যক্রম ও কম্পিউটির প্রোগ্রামিং ও কোডিং শেখা ও চর্চার কার্যক্রম। যার মধ্য দিয়ে সরকারি গণগ্রন্থাগার আমাদের শিশুদের একুশ শতকের উপযোগী করে গড়ে তুলতে কার্যকর ভ‚মিকা রাখবে। এ ছাড়া গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য বিনামূল্যে ওয়াইফাই ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার সংযুক্ত হতে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা আশা করি এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সরকারি গণগ্রন্থাগার আরও মানুষের কাছাকাছি যেতে সক্ষম হবে। আপনাদের চাহিদা বুঝতে সÿম হবে। তার আলোকে আমাদের গ্রন্থাগার সেবাকে ঢেলে সাজাতে, আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড প্রকল্পের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জনাব কার্স্টি ক্রফোর্ড জানান, সরকারি গণগ্রন্থাগারসমূহকে একুশ শতকের উপযোগী করে তুলতে ধাপে ধাপে নানা ধরনের নতুন সেবা চালু করছে লাইব্রেরিজ আনলিমিটেড। তিনি আরো বলেন, তারা ইতোমধ্যে ৬৪ জেলার সরকারি গণগ্রন্থাগারে গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য প্রায় একশো কম্পিউটার বিতরণ করেছেন। এছাড়াও লাইব্রেরিভিত্তিক যুগোপযোগী বিভিন্ন নতুন সেবা যেমন, গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য বিনামূল্যে ওয়াইফাই ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার, শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার কোডিং এবং প্রোগ্রামিং শেখার ব্যবস্থা এবং শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য টয়ব্রিক সামগ্রী চালু করেছেন। ২৫টি জেলায় এই ক্যাম্পেইনের নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি গণগ্রন্থাগারের এইসব নতুন সেবার চাহিদা তৈরি করা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে লাইব্রেরিমুখী করার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। কার্স্টি ক্রফোড আরো বলেন, গণগ্রন্থাগারের বিনামূল্য্রে কোডিং কর্মশালা এবং টয়ব্রিক সেশনগুলো শিশু এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে একুশ শতকের উপযোগী দক্ষতা যেমন তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা, নেতৃত্ব এবং বিশে¬ষণনির্ভর চিন্তার সক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে ।“ বেশী নয় আর মাত্র দশ বছরের ভেতরেই কর্মক্ষেত্রে অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে এই দক্ষতাগুলো। তাই বলা চলে, ২০৩০ সালের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বাংলাদেশের সরকারি গণগ্রন্থাগারগুলো বিশেষ ভ‚মিকা পালন করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।” বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার রংপুর চত্বরে ৭ এপ্রিলেও সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ এই ক্যাম্পেইনের অন্যান্য বিভিন্ন কর্মসূচি। ৭ এপ্রিল রবিবার, ক্যাম্পেইনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জনাব এনামুল হাবীব, জেলা প্রশাসক, রংপুর, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ড. সরিফা সালোয়া ডিনা, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এবং সভাপতিত্ব করবেন ড. মুহাম্মাদ রেজাউল হক, প্রাক্তন অধ্যক্ষ, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর। এই পাবলিক লাইব্রেরি ক্যাম্পেইনটি রংপুরসহ বাংলাদেশের মোট ২৫টি জেলায় বা¯Íবায়িত হবে। অন্যান্য জেলাসমূহ হলো- ঢাকা, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, জামালপুর, কুমিল¬া, মুন্সীগঞ্জ, কক্সবাজার, ফরিদপুর, রাঙ্গামাটি, গোপালগঞ্জ, বান্দরবান, টাঙ্গাইল, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, রাজশাহী, যশোর, পাবনা, খুলনা, কুষ্টিয়া, নীলফামারী, সিলেট, নারায়নগঞ্জ এবং দিনাজপুর।



0 comments:
Post a Comment