রংপুরে অন্তসত্তা’র পেটে লাথি, বাড়ি ছাড়া স্ব পরিবার

অনাহারে-অর্ধাহারে  ১০ দিন যাবত প্লাটফর্মে বসবাস
#পঞ্চায়তের বিরুদ্ধে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র নিলামে বিক্রি’র পায়তারা
# দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় নেয়ার দাবি সচেতন মহলের
স্টাফ রিপোর্টার
মাদক বিক্রেতা জেলে থাকার সুযোগ নিয়ে আটক ব্যক্তির অন্তসত্বা মেয়ের পেটে লাথি মারাসহ পৈষাচিক নির্যাতন করে পরিবারের ৪ সদস্যকে বাড়ি ছাড়া করে স্থানীয় মাতব্বর, নিলামে আসবাবপত্র বিক্রি করাসহ মহলøা ছাড়া করে গ্রাম্য পঞ্চায়েত। একমাত্র আশ্রয়স্থল রেলওয়ের জমিটুকু হাত ছাড়া হওয়ার ভয়ে গত ১০ দিন থেকে পরিবারটি রাত্রী যাপন করছে রেলওয়ে স্টেশন চত্তরে। কেউ তাদের খাবার এগিয়ে দিলে খাবার কেড়ে নিয়ে ফেলে দেয় ওই চক্রের হোতারা। অসহায় পরিবারের সদস্যরা দিন কাটচ্ছে অনাহারে-অর্ধাহারে। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর নগরীর স্টেশন মুসলিমপাড়া রেলব¯িÍ এলাকায়।
জানা গেছে, মাদকের কেনা-বেচার সাথে জড়িত ছিল বর্তমান কামরুজ্জামান।  বেশ কিছুদিন আগ হতে পেশা ছেড়ে দেয় সে। এলাকার কুচক্রী মহল পুলিশকে দিয়ে কামরুজ্জামানকে গ্রেফতার করায়। বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে কামরুজ্জামান। গত ২৭ মার্চ পঞ্চায়তের এমন হটকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ওই পরিবার বার বার এলাকার বিভিন্ন দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ওই পরিবারটির সদস্যরা অঙ্গীকার করে যে, আর কোন দিন আমি বা আমার পরিবারের কোন সদস্য মাদকের সাথে জড়িত হবনা। আর যদি জড়াই তবে স্থানীয় সচেতন মহল, পুলিশিং কমিটি, মাদক বিরোধী কমিটি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা  কর্তৃক যে শা¯িÍ আমাকে প্রদান করবেন তা কোন আপত্তি ছাড়াই মেনে নিতে ওয়াদাবদ্ধ হয় তারা। তবু ওই পরিবারটি ভাল হওয়ার সুযোগ চেয়ে সংশিøষ্ট এলাকায় বাকী জীবন যাপনের আকুতি-মিনতি করে। এরপরেও যেন ঠাঁই হয়নি মাদক বিক্রেতার পরিবারের সদস্যদের। তবুও তাদের রেলওয়ে ব¯িÍ এলাকায় কামরুজ্জামানের তাদের হাতেগড়া বাড়িতে থাকতে দেয়া হয়নি। এদিকে, এলাকার বাটুয়ার নামের এক ব্যক্তির ছেলে হীরা কামরুজ্জামানের অন্তসত্তা মেয়ের পেটে লাথি মারে। অপররা পরিবারের সদস্যদের জোর করে বাড়ি হতে বের করে দেয়। গত ১০ দিন থেকে একমাত্র আশ্রয়স্থল রেলওয়ের জমিটুকু হাত ছাড়া হওয়ার ভয়ে রেলওয়ে স্টেশন চত্তরে পরিবারটি রাত্রী যাপন করছে। ওই পরিবারের কোন সদস্যকে এলাকার কেউ তাদের খাবার এগিয়ে দিলে সেই খাবার কেড়ে নিয়ে ফেলে দেয়া হয় বলে ভুক্তভোগীরা মন্তব্য করেন। এছাড়াও কামরুজ্জামানের বাড়িঘর ও আসবাবপত্র বিক্রি করা হবে শুক্রবার, এমন ঘোষনাও গত বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব ও এশার পর এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষনা দেয় সমাজপতিরা। ওই পঞ্চায়তকে চালাচ্ছেন এলাকার বাটুয়া, তার ছেলে হীরা, মো¯Íাকিনসহ কয়েকজন সুযোগ-সন্ধানী লোকজন।
এদিকে, মাদক ছেড়ে আলোর পথে ফেরাতে সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রসংশনীয় উদ্যোগ যেখানে
দেশব্যাপী জনমনে ব্যাপক সাড়া জুগিয়েছে।
কথিত টাউট-বাটপার নিজেদের স্বার্থ রÿা ও রেলওয়ের জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ওই পরিবারকে বাড়ি ছাড়া করছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর এর সরণাপন্ন হলেও কোন প্রতিকার পায়নি পরিবারটি।
কামরুজ্জামানের স্ত্রী রশিদা বেগম বলেন, আমার স্বামী একসময় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। বর্তমানে জেল হাজতে আছে। আমি আমার এক অন্তঃসত্বা মেয়ে, কুমারী কন্যা ও শিশু বাচ্চা নিয়ে নাওয়া-খাওয়া ছাড়াই এক কাপড়ে ১০দিন যাবত স্টেশনে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের কি পাপ, আমার স্বামীর অপরাধে আমাদের এ অমানবিক শা¯িÍ দেয়া হচ্ছে। আমি কথা দিচ্ছি স্বামী ফিরে আসলে তাকেও আর কোন দিন মাদকের কাজ করতে দিবো না। আমাদেরকে আমাদেরও ঘরে ফিরে যেতে দেয়া হোক।
এএসআই শংকর বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলে বাধ সাধে পঞ্চায়তের লোকজনের। এসময় তোপের মুখে ফিরে আসতে বাধ্য হন ওই কর্মকর্তা। তিনি জানান, এটা রেলওয়ের জায়গায় বসবাসের বিষয়। আমাদের করার তেমন কিছু নাই।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার পঞ্চায়ত সভাপতি সালাউদ্দিন জানান, নিলামের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নেয়া বা¯Íবায়ন হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে তা বা¯Íবায়ন করা হবে। আর এর চেয়ে বেশী কিছু জানতে চাইলে এলাকায় আসেন।
এদিকে, স্থানীয় কাউন্সিলর হারুন অর রশিদের জানান, মাদক বিরোধী বৈঠক করে ওই পঞ্চয়েত। সেখানে মাদক বিরোধী বিষয়ে সচেতনতা ও আলোচনা হয়েছে। কিন্ত কোন পরিবারকে মহলøা ছাড়া করা হবে বা কারও মাল পঞ্চায়েতের মাধ্যমে নিলামে কেনা-বেচা হবে এমন তথ্য আমার জানা নাই। যদি কেউ এমন করে, তবে তা হবে অমানবিক। এখন আর পঞ্চায়েত’র যুগ-জমানা নাই।
অপরদিকে, রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত জানি না। তবে যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তা খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল আলীম মাহমুদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, ভুক্তভোগীদের থানায় অভিযোগ দিতে বলেন। বিষয়টি আমি দেখছি। অপরদিকে, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো¯Íাফিজার রহমান মো¯Íফা বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমি শুনিনি। তবে খোজঁ-খবর নিচ্ছি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Share on Google Plus
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment

ঢাকা অফিস: ৭৯ কাকরাইল, ঢাকা। নতুন অফিস: জি.এল.রায় রোড, রংপুর।