ঋণের প্রলোভনে হয়রানীর অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার.
শক্তি ফাউন্ডেশনের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স য়ের টাকা জমা নিয়েছে। ঋণ দেয়া তো দুরের কথা, জমানো স য় ও ডিপিএস এর টাকা ফিরে পাওয়াই চরম দুস্কর হয়ে পড়ছে। এ বিষয়টি খোদ থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ানোর খবর পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, নগরীর কলেজ রোডস্থ আদর্শপাড়া এলাকায় ভাড়ায় নেয়া একটি ভবনে শক্তি ফাউ-েশন ফর ডিস এ্যাডভান্টেজ উইমেন নামের (এনজিও) প্রতিষ্ঠান ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ওই এনজিও’র আওতায় নগরীর সেন্ট্রাল রোড সিটি সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এনজিও’র সমিতি বসে। এতে এনজিও কর্মী স্থানীয় বাসিন্দা তাজুল ইসলামের মেয়ে তাহেরা ইসলাম মুক্তাকে ১ লক্ষাধিক টাকা ব্যবসায়িক ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সদস্য করে শক্তি ফাউ-েশন। এরই প্রেক্ষিতে এনজিও কর্মী ও ম্যানেজারের কথায় সায় দিয়ে ৯ হাজার ৮৭৬ টাকা স য় এবং ডিপিএস বাবদ ২শ’ টাকা জমা করে। এদিকে, ম্যানেজার কর্তৃক ঋণ দেয়ার নামে প্রথমে ১ লাখ টাকা ঋণ দানের কথা বলে ফরম পূরণ করে মাঠকর্মী বিপুল। কিন্তু বাদ সাধে ম্যানেজার আল আমিনের চাহিদার উৎকোচ। উৎকোচ দিতে রাজী না হওয়ায় ঋণ পাশ হয়নি। পরবর্তীতে ১ লাখা টাকার পরিবর্তে ৪৯ হাজার টাকা ঋণ দেয়া হবে এমন প্রতিশ্রুতি দেন সদস্যকে। ঋণ দিতে বিভিন্ন টালবাহানা করে। এরপর মাঠকর্মী এলাকায় আসলে স্থানীয়রা মাঠকর্মীকে আটক করে ম্যানেজার আল আমিন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে যান। উভয়ের কথাবার্তা শুনে পুলিশ এনজিও ম্যানেজারকে সাব জানিয়ে দেন ঋণ না দিলে স য়কৃত টাকা ফেরত দিতে বলেন।
এছাড়াও এনজিওটির রংপুর অফিসের একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে, বর্তমান ম্যানেজার আল আমিন এরিয়াভুক্ত বিভিন্ন কেন্দ্রের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানী ও উৎকোচ চেয়ে দাবি করা ছাড়াও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকেন। এজন্য দৈনন্দিনে বিভিন্ন কেন্দ্র হতে আসা সদস্যরা স্ব স্ব স য়ের টাকা ফেরত নিয়ে যায়। এনজিও’র সদস্য থাকতে চান না। আর অফিসের বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীও তার কর্মকা-ে ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। তবে কর্মকর্তা নিজেদের চাকরি হারানোর ভয়ে ওই ম্যানেজারের বিরুদ্ধে প্রকাশে মুখ খুলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ঋণ দেয়ার অযুহাতে সদস্যের কাছ হতে গত ৪ মার্চ পাশ বহি নিয়ে যায় মাঠকর্মী। কিন্তু এনজিও কর্তৃপক্ষ ঋণ দেয়া তো দুরের কথা, জমানো স য়ের টাকা ফেরত দেয়া নিয়েও গড়িমসি করে আসছেন। এদিকে ঋণ দেয়া কিংবা স য়ের টাকা ফেরত না দিয়ে উলেটা মোবাইল ফোনে ছাড়াও বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে এনজিও ম্যানেজার আল আমিন। এ ব্যপারে রংপুর আরপিএমপি’র কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সদস্য মুক্তা।
এদিকে, তাহেরা ইসলাম মুক্তা বলেন, ম্যানেজার আল আমিনের বাড়ী পুড়ে গেছে, সেজন্য আমার কাছে আরো ১০ হাজার টাকা চাইছিলো । তার চাহিদা পুরণ করতে না পারায় আমাকে ব্যবসায়িক ঋণের টাকা দিচ্ছে না। ঋণ না দেয়, তাতে কোন সমস্যা নেই। আমার স য়ের টাকা তো ফেরত দিবে? পুলিশ অফিসারের সামনে দেয়া ওয়াদাও বরখেলাপ করছে ম্যানেজার। এভাবে আমাকে হয়রানী আর ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। সেজন্যে আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
তবে, ঘটনার কথা স্বীকার করে মাঠকর্মী বিপুল বলেন, আমি ঋণের প্রস্তাব ও ঋণ ফরম পূরণ করে ম্যানেজার স্যারের নিকট দাখিল করেছি। স্যার কেনো ঋণ দিবেন না তা জানা নাই আমার। তরব, ওই সদস্যর ভাইয়ের নামের আরো একটি ঋণ ছিলো। সেই ঋণের কিস্তি বকেয়া আছে, সেজন্যে মুক্তার টাকা আটক করেছেন স্যার। একজনের দায় অপরজনে নেয়া প্রসঙ্গে ওই মাঠকর্মী কোন মন্তব্য করতে রাজী হয়নি।
এব্যাপারে, শক্তি ফাউ-েশন রংপুর শাখা ম্যানেজার আল আমিনের সাথে গত শুক্রবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ত আছেন কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি তিনি।


0 comments:
Post a Comment