এস.এম লিটন.
সড়কের নিচু হওয়ায় পানি জমে থাকায় দুর্ভোগের শেষ নেই চলাচলকারি জন সাধারণের। রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার প্রবেশপথে জলাবদ্ধতা যেনো দেখার কেউ নেই।
জানা গেছে, রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়া, নিউ জুম্মাপাড়া, আমাশু কুকরুল, আমাশু দক্ষিণপাড়া, ভাটিয়াপাড়া, লালপুল, বালাকুমার, মাসানকুড়া, বুড়িরহাট, চওড়ারহাট, তপোধনসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা হতে আসা মানুষজন জুম্মাপাড়া দিয়ে নগরীর প্রধান সড়কে উঠার প্রবেশদ্বার এবং পায়রা চত্তর, জাহাজ কোম্পানী মোড়, সুপার মার্কেট, গুদরি বাজার, বেতপট্টি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার প্রবেশপথ জুম্মাপাড়ার ফকির মোহাম্মদ রোড (মিঠু হোটেলের সামন) সড়কটি। ওই রাস্তার সামনের মুখটি ঢালু হওয়ার ফলে বৃষ্টির পানি ড্রেন ভরাটের ময়লাযুক্ত পানি আর কাঁদায় পরিপূর্ণ থাকে। রাস্তা ঘেঁষে ড্রেন থাকলেও পানি নিস্কাশনের নেই কোন উপায়। উপায় থাকলেও অপরিকল্পিভাবে ড্রেন করার ফলে রাস্তার পানি প্রবাহের পথ বন্ধ প্রায়। যার ফলে ওই সব পাড়া-মহল্লা হতে আসা স্কুল-কলেজ গামী ছাত্র-ছাত্রীসহ সবসময় ১০ হাজারেরও বেশি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজনকে ময়লা-আর্বজনাযুক্ত পানি দিয়েই পার হতে হয়। জুম্মাপাড়ার এই সড়কটি সংস্কার হয় কিন্তু নানা কারণে পরিকল্পনা মাফিক কাজ হয় না। নানা অযুহাতে সরু, আঁকা-ভাঁকা, উঠা-নামা কিংবা নানাজনের সাথে ২৩ নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধির আর্শিবাদপুষ্ট ও আস্থাভাজন লোকদের সখ্যতা থাকায় টেন্ডারের ম্যানুয়াল অনুযায়ী কাজ সম্পূর্ণ করা হয় না। এরফলে বিভিন্ন স্থান হতে আসা মানুষজনের দুর্ভোগ প্রতিনিয়তই লেগেই থাকে।
গত রবিবার দিবাগত রাতে অঝরে বৃষ্টিপাত হওয়ায় (জুম্মাপাড়া (মিঠু হোটেল সম্মুখ) রাস্তার প্রবেশদ্বারে পানি আটকে থাকে। চলাচলরত মানুষজন আক্ষেপ করে বলেন, সিটির পক্ষ হতে কাজ করা হয়, কিন্তু কাজের কাজ হয় না। উপকারের পরিবর্তে সাধারণ মানুষজনকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়তই। বর্ষা মৌসুমের আগে সড়কটির মাথায় উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগলে পানিবন্দি হয়ে পড়বে স্থানীয় বাসিন্দা। আর অন্যান্য এলাকা থেকে আসা লোকজনদেরও অস্বস্তির নিঃশ^াস ফেলতে হবে। ভোট আসলে ভোটের জন্য দ্বারে দ্বারে আসে ছদ্দবেশি জনপ্রতিনিধি। এলাকার বয়জ্যোষ্ঠদের হাত ধরে শলামর্শ করে টাকা ছিটিয়ে ভোট নেয় কিন্তু উন্নয়নের বেলায় নিজ স্বার্থই দেখেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। নাম প্রকাশ না করার সর্তে একজন ব্যবসায়ি জানান, পানি বন্দি রাস্তা হতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেকেন্দার আলীর বাড়ি খুব জোর ২ শ’ মিটার দুরে। তিনি সব জেনেই নিরব থাকেন। খালি বলেন সামনে প্রকল্প আসলে কাজ শুরু হবে। আসলে কবে নাগাত প্রধান সমস্যা দুর হবে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের সংশয়।
সরেজমিনে গত সোমবার বেলা ১২ টারদিকে ওই সড়কের প্রবেশ দ্বারে গিয়ে দেখা যায় সড়কের মাথাজুড়ে পানি বন্দি। রাস্তায় চলাচলরত পথচারীরা তাদের স্ব-স্ব পরনে থাকা প্যান্ট, লুঙ্গি, মেয়ে পথচারীর শাড়ী, স্যালোয়ার হাটুর কাছে তুলে রাস্তা পারাপার হতে দেখা যায়। নামাজ পড়–য়া মানুষজনও ক্ষুব্ধ হয়ে বলে আমাদের কপালে এই তো উন্নয়নের ছোঁয়া? ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা পায়নি অটো রিক্সা, চার্জার রিক্সাসহ অন্যান্য যানবাহনগুলোর চালকরাও। তাদেরও চলাচলে বেগ পেতে হয়েছে। ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহলের মতে, রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ কিংবা সংস্কার হয়, তবে প্লান অনুযায়ী কার্য্যাদী বাস্তবায়নে স্বজনপ্রীতির তদ্বিরসহ নানা অযুহাতে বাঁধা সৃষ্টি। এসব বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মান সম্মত কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় থাকবে বলে ধারনা করছেন তারা।
এ ব্যাপারে, কুকরুল হতে আসা বাসিন্দা সানাউল্ল্যাহ মিয়া জানান, উন্নয়ন হয়েছে দেখি তো রাস্তায় পানি জমাট রয়েছে। অপরদিকে, ফুটপাত ব্যবসায়ি হুমাউন কবির বলেন, দুপুরে ওই রাস্তায় পানি আটকের যে অবস্থা দেখছি। সেজন্য ওইরাস্তা দিয়ে আর বেড়াইনি। অপরদিকে, অটো রিক্সা চালক সামসুল ইসলাম বলেন, পানির জন্য যাত্রী উঠানামা করতে পারি না। যাত্রী সাধারণ কষ্ট আর পানি পার হতে চায় না। এজন্য আজ তেমন আয়ও হয় নাই। এদিকে, কলেজ ছাত্র আরমান আরাফাত বলেন, এটা আমাদের বলে কি হবে? যার দেখার দায়িত্ব তিনি (কাউন্সিলর) তো চোখ দিয়ে দেখেন না। কারণ উনি তো মোটর সাইকেলে যাতায়াত করেন। হেটে গেলে হয়তো চোখে পড়তো। স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেকবার জানানো হয়েছে, কাজের কাজ কিছুই হয় না। শুধু প্রতিশ্রুতির কথা শুনতে হয়।
এ ব্যাপারে, নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেকেন্দার আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

0 comments:
Post a Comment