গৃহীত প্রকল্প কাগজ-কলমে বন্দি : কাজ কবে শুরু হবে রসিক কর্তৃপক্ষের দিকে চেয়ে আছেন নগরবাসী
এস.এম লিটন.
জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রশস্ত। সড়ক প্রশস্ত না হওয়ার অন্তরালে প্রবেশপথেই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী ও কাউন্সিলরসহ বেশ কয়েকজনের বাসভবন। গৃহীত প্রকল্প লালফিতায় বন্দি হওয়ায় আলোরপথ দেখবে কি-না তা, নিয়েও দেখা দিয়েছে সন্দিহান। জমি অধিগ্রহণ পূর্বক অবকাঠামো ভাঙার উদ্যোগে ভাটা এমন শঙ্কা দেখা দিয়েছে জনমনে। জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন বঞ্ছিত করে রাখছে অপ্রশস্ত সড়কই, এমন চিত্র এখন রংপুর মহানগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডজুড়ে। এ যেন আলোর নিচেই অন্ধকার।
জানা গেছে, রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩ টি ওয়ার্ডের কেন্দ্রস্থল নগরভবন। নগরভবনটি হলো ২৩ নং ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডে নগরভবন হলেও সবচেয়ে সেবা বঞ্ছিত হচ্ছে ওয়ার্ডবাসীসহ প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। সেবা বঞ্ছিত হওয়ার মূল কারণই হচ্ছে অপ্রশস্ত সড়ক। ভাঙা জামে মসজিদের উত্তর দিক হতে ৩০ ফিট সড়ক প্রশস্ত করণের পরিকল্পনা করে বিদায়ী সিটি পরিষদ।
এসময় সচেতন মহল রসিক কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায়। কিন্তু বাধ সাধে সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের দেয়া লাল ক্রস চিহ্ন। সড়ক প্রশস্ত করতে প্যাকেজভুক্ত করা হয়। টেন্ডারও আহবান করেছিলো বিদায়ী পরিষদ। কাজটি পায় আইয়ুব আলী নামের এক ঠিকাদার। পরবর্তীতে তার মৃত্যুজনীত কারণে কাজ শুরু করায় ভাটা পড়ে। অপরদিকে, ওই লাল দাগ সীমানায় পড়ে আজাদ হোমিও হল নামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ২টি দোকান ঘর, পেছনে সরু একটি রাস্তার বিপরীতে রয়েছে স্থানীয় কাউন্সিলরের বাসভবন, ঠিকাদার মুন্নু, এস এ আরবের বাসভবনসহ কয়েকজনের আবাসস্থল। সড়ক ঘেষে রসিকের লাল চিহ্ন তারকা পড়ায় বাড়ির মালিকরা চরম বেকায়দায় পড়েন নিজেদের বসতবাড়ি নিয়ে। কেউই তো জমি ছাড়তে চান না। তাহলে কিভাবে রসিকের উদ্যোগ বাস্তবায়নে আলোর পথ দেখবে। তাছাড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে দাঁড়াবে এই সড়কটি। ওই সড়ক দিয়ে রংপুর টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট হয়ে-শালবন মিস্ত্রিপাড়া সড়কে গিয়ে মিশেছে। ওই সড়কটি দিয়ে সিগারেট কোম্পানী হয়ে হারাগাছ এলাকা পৌছায় এবং সিগারেট কোম্পানী হতে চওড়ারহাট হয়ে বুড়িরহাট সড়কে যায়। জুম্মাপাড়ার সড়কটি প্রশস্ত হলে ওইপথ দিয়ে চওড়ারহাট, বুড়িহাট, সিগারেট কোম্পানী সড়কে চলাচলে সহজতর হতো। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ভেঙেচুরে যানবাহন চলাচলে যোগ্য করে তোলা প্রয়োজন। এতে কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। সড়ক প্রশস্ত করতে সবার প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ওয়ার্ডে প্রবেশের এই অপ্রশস্ত সড়কটি প্রশস্ত হলে ২৩ নং ওয়ার্ডবাসীসহ ৪, ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়র্ডের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের চলাচলে সহায়ক হবে। এই সড়কে ভাড়ী যানবাহন চলাচল করতে পারলে কৃষকের পণ্য সামগ্রি অনায়াসে বহণ করা সহজলভ্য হবে। ব্যবসায়িরাও নিজেদের পণ্যসামগ্রি বেচা-কেনায় পরিবহণ ব্যবহার করতে পারলে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে এসব এলাকার। এই ওয়ার্ডে সরু সড়কে অগ্নি নির্বাপনের পানিবাহী গাড়ি প্রবেশ করলে অপর একটি রিকসা কিংবা ভ্যানগাড়িও ক্রস করতে পারে না। কিংবা সড়কের প্রত্যেকটি মোড়ে দমকলকর্মীদের ছোট গাড়ীগুলো টার্নিং নিতে প্রকট বেগ পেতে হয়। যার কারণে ফায়ার সার্ভিসের ছোট-বড় গাড়ীগুলো অগ্নিকাÐের ঘটনাস্থলে যেতে বিলম্ব হওয়ায় মানুষজন অগ্নিকাÐে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অহরহ। প্রায় ৭ মাস আগে জুম্মাপাড়ার আব্দুল হামিদের দ্বিতল বাসভবনে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসে পানিবাহি গাড়ি ঘটনাস্থলে ঢুকতে পারেনি। অপ্রশস্ত সড়ক হওয়ায় শেষতক দমকলকর্মীরা মোটর সাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে নেয়। সড়ক প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রশস্ত। নানা সমস্যার মধ্যে রাস্তাঘাট, ড্রেন, জলাবদ্ধতা ও আবর্জনার সমস্যা প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে এ ওয়ার্ডটিতে।
নিউ জুম্মাপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেন নামের এক বাসিন্দা জানান, এলাকাটি আগে রংপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছিল। সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ায় ওয়ার্ডটির ক্রমিক সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩ নম্বরে। পৌরসভা থাকার সময়ও ছিল অবহেলিত, এখনো তাই রয়ে গেছে। ওয়ার্ডে প্রবেশের সবসড়কের মুখগুলোই অপ্রশস্ত। গত নির্বাচনের আগে সড়কটি প্রশস্ত করণের মূল দাবিই ছিলো ওয়ার্ডবাসীর। প্রার্থীরাও উন্নয়নের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন, কিন্তু নির্বাচনের পর আর সেপথে নেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
এ দিকে জুম্মাপাড়া এলাকার আব্দুল জলিল নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শুনেছি রাস্তা চওড়া হবে। সিটির লোকজন দাগ দিছে, কিন্তু দাগেই আছে। রাস্তা প্রশস্ত হওয়ার কোন আলাতম দেখিনা। রাস্তাটি প্রশস্ত হলে সবার ভালো হয়। মানুষজন বাড়ি করতে এখন রাস্তা খোঁজে। অপ্রশস্ত রাস্তায় মানুষজন ভোগান্তি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে হুমাউন কবীর মিঠু বললেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙার কথা, কিন্তু উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা। চওড়া রাস্তা না হওয়ায় মানুষজনের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। শুনছি রাস্তাটি বড় হবে, কিন্তু কে উদ্যোগ নেবে সেটার? কারণ অনেকগুলো বাড়িও ভাঙা পড়বে। রাস্তাঘেঁষে যাদের বাড়ি তাদের সাথে বসে আলোচনারও কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। আমরা সব জায়গায় উন্নয়ন হয়, আর আমাদের এলাকাটির রাস্তা প্রশস্ত না হওয়ায় অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। শাখা সড়কগুলোর অবস্থা আরো নাজুক। ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও কার্যত কোন উপকারে আসেনা বললেই চলে। বাসাবাড়ির পানি সড়কেই গড়িয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, এসব সমস্যার সমাধান না পেলেও সিটি করপোরেশনকে ট্যাক্স ঠিকই দিতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। সড়ক প্রশস্ত’র গৃহীত প্রকল্প দ্রæত বাস্তবায়নের নজির স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই। এজন্য রসিক মেয়রের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা এবং উদ্যোগ দেখতে চায় এসব এলাকার ভুক্তভোগী মানুষজন।
অপরদিকে, নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা ছিলো, সড়ক প্রশস্ত করণের। এটা প্রকৌশলীরাই ভালো বলতে পারবেন।
এ ব্যাপারে, তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেননি তিনি।
অপরদিকে, জমি অধিগ্রহণসহ অনেক কিছু বিষয় আছে এমন মস্তব্য করে স্থানীয় কাউন্সিলর সেকেন্দার আলী জানান, শুধু তো আমার বাড়ি নয়, আমার বাড়ির পাশে আরো অনেক বাড়ি রয়েছে সেগুলো ভাঙতে হবে। ভাঙতে গেলে অবশ্রই জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। আমি তো একাই সবকিছু করতে পারিনা। এখানে মেয়র, এসি, নির্বাহী প্রকৌশলী রয়েছে। তবে প্যাকেজভুক্ত করা হয়েছে, টেন্ডারও আহবান করেছিলো বিদায়ী পরিষদ। তবে, কাজ পাওয়া ঠিকাদারের মৃত্যুজনীত কারণে কাজ শুরু হয়নি। আগামী সপ্তাহে বলা যাবে, সড়ক প্রশস্ত করণের কাজটি কি হবে? তবে আমার চেয়ে এসি, নির্বাহী প্রকৌশরীরাই ভালো বলতে পারবেন।
এস.এম লিটন.
জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রশস্ত। সড়ক প্রশস্ত না হওয়ার অন্তরালে প্রবেশপথেই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী ও কাউন্সিলরসহ বেশ কয়েকজনের বাসভবন। গৃহীত প্রকল্প লালফিতায় বন্দি হওয়ায় আলোরপথ দেখবে কি-না তা, নিয়েও দেখা দিয়েছে সন্দিহান। জমি অধিগ্রহণ পূর্বক অবকাঠামো ভাঙার উদ্যোগে ভাটা এমন শঙ্কা দেখা দিয়েছে জনমনে। জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন বঞ্ছিত করে রাখছে অপ্রশস্ত সড়কই, এমন চিত্র এখন রংপুর মহানগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডজুড়ে। এ যেন আলোর নিচেই অন্ধকার।
জানা গেছে, রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩ টি ওয়ার্ডের কেন্দ্রস্থল নগরভবন। নগরভবনটি হলো ২৩ নং ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডে নগরভবন হলেও সবচেয়ে সেবা বঞ্ছিত হচ্ছে ওয়ার্ডবাসীসহ প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। সেবা বঞ্ছিত হওয়ার মূল কারণই হচ্ছে অপ্রশস্ত সড়ক। ভাঙা জামে মসজিদের উত্তর দিক হতে ৩০ ফিট সড়ক প্রশস্ত করণের পরিকল্পনা করে বিদায়ী সিটি পরিষদ।
এসময় সচেতন মহল রসিক কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায়। কিন্তু বাধ সাধে সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের দেয়া লাল ক্রস চিহ্ন। সড়ক প্রশস্ত করতে প্যাকেজভুক্ত করা হয়। টেন্ডারও আহবান করেছিলো বিদায়ী পরিষদ। কাজটি পায় আইয়ুব আলী নামের এক ঠিকাদার। পরবর্তীতে তার মৃত্যুজনীত কারণে কাজ শুরু করায় ভাটা পড়ে। অপরদিকে, ওই লাল দাগ সীমানায় পড়ে আজাদ হোমিও হল নামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ২টি দোকান ঘর, পেছনে সরু একটি রাস্তার বিপরীতে রয়েছে স্থানীয় কাউন্সিলরের বাসভবন, ঠিকাদার মুন্নু, এস এ আরবের বাসভবনসহ কয়েকজনের আবাসস্থল। সড়ক ঘেষে রসিকের লাল চিহ্ন তারকা পড়ায় বাড়ির মালিকরা চরম বেকায়দায় পড়েন নিজেদের বসতবাড়ি নিয়ে। কেউই তো জমি ছাড়তে চান না। তাহলে কিভাবে রসিকের উদ্যোগ বাস্তবায়নে আলোর পথ দেখবে। তাছাড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে দাঁড়াবে এই সড়কটি। ওই সড়ক দিয়ে রংপুর টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট হয়ে-শালবন মিস্ত্রিপাড়া সড়কে গিয়ে মিশেছে। ওই সড়কটি দিয়ে সিগারেট কোম্পানী হয়ে হারাগাছ এলাকা পৌছায় এবং সিগারেট কোম্পানী হতে চওড়ারহাট হয়ে বুড়িরহাট সড়কে যায়। জুম্মাপাড়ার সড়কটি প্রশস্ত হলে ওইপথ দিয়ে চওড়ারহাট, বুড়িহাট, সিগারেট কোম্পানী সড়কে চলাচলে সহজতর হতো। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ভেঙেচুরে যানবাহন চলাচলে যোগ্য করে তোলা প্রয়োজন। এতে কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। সড়ক প্রশস্ত করতে সবার প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ওয়ার্ডে প্রবেশের এই অপ্রশস্ত সড়কটি প্রশস্ত হলে ২৩ নং ওয়ার্ডবাসীসহ ৪, ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়র্ডের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের চলাচলে সহায়ক হবে। এই সড়কে ভাড়ী যানবাহন চলাচল করতে পারলে কৃষকের পণ্য সামগ্রি অনায়াসে বহণ করা সহজলভ্য হবে। ব্যবসায়িরাও নিজেদের পণ্যসামগ্রি বেচা-কেনায় পরিবহণ ব্যবহার করতে পারলে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে এসব এলাকার। এই ওয়ার্ডে সরু সড়কে অগ্নি নির্বাপনের পানিবাহী গাড়ি প্রবেশ করলে অপর একটি রিকসা কিংবা ভ্যানগাড়িও ক্রস করতে পারে না। কিংবা সড়কের প্রত্যেকটি মোড়ে দমকলকর্মীদের ছোট গাড়ীগুলো টার্নিং নিতে প্রকট বেগ পেতে হয়। যার কারণে ফায়ার সার্ভিসের ছোট-বড় গাড়ীগুলো অগ্নিকাÐের ঘটনাস্থলে যেতে বিলম্ব হওয়ায় মানুষজন অগ্নিকাÐে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অহরহ। প্রায় ৭ মাস আগে জুম্মাপাড়ার আব্দুল হামিদের দ্বিতল বাসভবনে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসে পানিবাহি গাড়ি ঘটনাস্থলে ঢুকতে পারেনি। অপ্রশস্ত সড়ক হওয়ায় শেষতক দমকলকর্মীরা মোটর সাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে নেয়। সড়ক প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রশস্ত। নানা সমস্যার মধ্যে রাস্তাঘাট, ড্রেন, জলাবদ্ধতা ও আবর্জনার সমস্যা প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে এ ওয়ার্ডটিতে।
নিউ জুম্মাপাড়া এলাকার আলমগীর হোসেন নামের এক বাসিন্দা জানান, এলাকাটি আগে রংপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছিল। সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ায় ওয়ার্ডটির ক্রমিক সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩ নম্বরে। পৌরসভা থাকার সময়ও ছিল অবহেলিত, এখনো তাই রয়ে গেছে। ওয়ার্ডে প্রবেশের সবসড়কের মুখগুলোই অপ্রশস্ত। গত নির্বাচনের আগে সড়কটি প্রশস্ত করণের মূল দাবিই ছিলো ওয়ার্ডবাসীর। প্রার্থীরাও উন্নয়নের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন, কিন্তু নির্বাচনের পর আর সেপথে নেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
এ দিকে জুম্মাপাড়া এলাকার আব্দুল জলিল নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শুনেছি রাস্তা চওড়া হবে। সিটির লোকজন দাগ দিছে, কিন্তু দাগেই আছে। রাস্তা প্রশস্ত হওয়ার কোন আলাতম দেখিনা। রাস্তাটি প্রশস্ত হলে সবার ভালো হয়। মানুষজন বাড়ি করতে এখন রাস্তা খোঁজে। অপ্রশস্ত রাস্তায় মানুষজন ভোগান্তি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে হুমাউন কবীর মিঠু বললেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙার কথা, কিন্তু উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা। চওড়া রাস্তা না হওয়ায় মানুষজনের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। শুনছি রাস্তাটি বড় হবে, কিন্তু কে উদ্যোগ নেবে সেটার? কারণ অনেকগুলো বাড়িও ভাঙা পড়বে। রাস্তাঘেঁষে যাদের বাড়ি তাদের সাথে বসে আলোচনারও কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। আমরা সব জায়গায় উন্নয়ন হয়, আর আমাদের এলাকাটির রাস্তা প্রশস্ত না হওয়ায় অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। শাখা সড়কগুলোর অবস্থা আরো নাজুক। ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও কার্যত কোন উপকারে আসেনা বললেই চলে। বাসাবাড়ির পানি সড়কেই গড়িয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, এসব সমস্যার সমাধান না পেলেও সিটি করপোরেশনকে ট্যাক্স ঠিকই দিতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। সড়ক প্রশস্ত’র গৃহীত প্রকল্প দ্রæত বাস্তবায়নের নজির স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই। এজন্য রসিক মেয়রের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা এবং উদ্যোগ দেখতে চায় এসব এলাকার ভুক্তভোগী মানুষজন।
অপরদিকে, নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা ছিলো, সড়ক প্রশস্ত করণের। এটা প্রকৌশলীরাই ভালো বলতে পারবেন।
এ ব্যাপারে, তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেননি তিনি।
অপরদিকে, জমি অধিগ্রহণসহ অনেক কিছু বিষয় আছে এমন মস্তব্য করে স্থানীয় কাউন্সিলর সেকেন্দার আলী জানান, শুধু তো আমার বাড়ি নয়, আমার বাড়ির পাশে আরো অনেক বাড়ি রয়েছে সেগুলো ভাঙতে হবে। ভাঙতে গেলে অবশ্রই জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। আমি তো একাই সবকিছু করতে পারিনা। এখানে মেয়র, এসি, নির্বাহী প্রকৌশলী রয়েছে। তবে প্যাকেজভুক্ত করা হয়েছে, টেন্ডারও আহবান করেছিলো বিদায়ী পরিষদ। তবে, কাজ পাওয়া ঠিকাদারের মৃত্যুজনীত কারণে কাজ শুরু হয়নি। আগামী সপ্তাহে বলা যাবে, সড়ক প্রশস্ত করণের কাজটি কি হবে? তবে আমার চেয়ে এসি, নির্বাহী প্রকৌশরীরাই ভালো বলতে পারবেন।

0 comments:
Post a Comment